1. hasanf14@gmail.com : admin : Hasan Mahamud
বুধবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২০, ০৯:১৬ অপরাহ্ন

সব কার্টুন শিশুদের মানসিক বিকাশে সহায়ক নয়

  • প্রকাশ : শুক্রবার, ১৭ জানুয়ারী, ২০২০
  • ৬৬ বার

মাইশা শওকত:
শিশুদের বিনোদনের অন্যতম উপাদান হল কার্টুন। কার্টুন এমন একটি মাধ্যম, যার মধ্য দিয়ে শিশু নিজেকে কল্পনা করে। তাই বাবা-মা’র উচিত, সন্তান কী ধরনের কার্টুন দেখছে; সেদিকে খেয়াল রাখা। একটি কার্টুন শিশুদের মানসিক বিকাশে অনেক বেশি ভূমিকা রাখে। শিশুরা কল্পনাপ্রবণ। তারা কার্টুন চরিত্রের সঙ্গে নিজেকে মেলাতে চেষ্টা করে। কিন্তু এ ক্ষেত্রে জটিল কিছু বিষয় পরোক্ষভাবে শিশুর মস্তিষ্কে ঢুকে যায়; সে বিষয়ে কেউ খেয়াল রাখে না।

যদিও সব কার্টুন এক নয়; তবে কিছু কার্টুন শিশুদের মানসিক বিকাশে সঠিক ভূমিকা রাখছে কিনা, তা নিয়ে আমি সন্দিহান। যেমন রূপকথার গল্পে অহরহ দেখা যায়- একজন রাজার সাত স্ত্রী কিংবা একের অধিক স্ত্রী। আমরাও ছোটবেলা পার করেছি এ ধরনের কার্টুন দেখে। কিন্তু আমার কাছে মনে হয়- এ বিষয়টি একটি শিশুর মনে পরোক্ষভাবে ঢুকিয়ে দিচ্ছে যে, একজন ব্যক্তির একাধিক স্ত্রী থাকা অস্বাভাবিক কিছু নয়! শুধু রূপকথা কেন; এটা ঠিক যে, রাজা-বাদশা কিংবা নবাবদের আসলেও একের অধিক স্ত্রী থাকা অস্বাভাবিক কিছু ছিল না; কিন্তু বর্তমান যুগে এটি বিরল। যেহেতু কার্টুন শিশুদের জন্য একটি শিক্ষণীয় মাধ্যম; সুতরাং এ বিষয়টি কার্টুনে না থাকাই ভালো।

কার্টুনের রাজকুমারী বা মূল নায়িকা অনেক ফর্সা আর আকর্ষণীয় দৈহিক গঠনের অধিকারী হয়ে থাকে। আর খলনায়ক, খলনায়িকা, রাক্ষসী, দৈত্যরা হয়ে থাকে কালো রঙের এবং বিশাল আকৃতির। এছাড়াও দৈবশক্তিতে পুকুরে ডুবে কালোমেয়ে দুধে-আলতা রঙ পেয়ে যাচ্ছে; আবার কেউ পাপকাজ করে পুকুরে ডুবে কালো রঙ ধারণ করছে। শিশুদের মধ্যে যার গায়ের রং শ্যামবর্ণের, তার মনে একটু হলেও ঢুকে যায়- সে কালো এবং কালো মানেই অসুন্দর। এর মধ্য সে নিজেকে অভিশপ্ত মনে করতে থাকে।

পাশ্চাত্যের অনেক বিখ্যাত ঔপন্যাসিকের লেখা কার্টুনগুলোর সংলাপ বাংলায় রূপান্তর করে শিশুদের দেখানো হয়। এরকম একটি সংলাপ- ‘বলো তো আয়না, আমার চেয়ে বেশি ফর্সা এ দুনিয়ায় আর কেউ আছে কিনা।’ আমি জানি না, মূলগল্পটি এরকমভাবেই রচিত কিনা; কিংবা যদি রচিত হয়েও থাকে, সেটা হয়তো সে দেশের জন্যই উপযুক্ত, আমাদের দেশের জন্য নয়। আমাদের দেশে ২০২০ সালে এসেও সৌন্দর্যের সংজ্ঞা গায়ের চামড়ার মাঝে নিহিত বলে মনে করে তথাকথিত কিছু মানুষ।

কোনো পরিশ্রম না করেই সোনাদানা, মণিমুক্তা পাওয়া কতটা যৌক্তিক- এটা আমার মাথায় আসে না। যদিও এগুলো রূপকথার গল্প; কিন্তু একটি শিশুর মনে ঢুকিয়ে দেয়া হচ্ছে- সোনা, রূপা, টাকাই আসলে সব এবং এগুলো পরিশ্রম ছাড়াই পাওয়া যায়। এছাড়াও শিশুদের মনে ছোটবেলা থেকেই রূপ দেখে মোহিত হওয়ার শিক্ষা দেয়া হচ্ছে। যেমন- রাজকন্যার রূপে মোহিত হয়ে রাজকুমার পাগল হয়ে গেলেন ইত্যাদি। যেখানে গুণকে প্রাধান্যসহ মনের সৌন্দর্যের কদর করা উচিত; সেখানে প্রথম দেখায় প্রেমে পড়ে যাওয়ার মতো বিষয়গুলো দেখানো হয়। যে কার্টুন শিশুদের মানসিক বিকাশে সাহায্য করবে, শিক্ষণীয় হবে এবং একইসঙ্গে একটি শিশুর জীবনবোধ জাগ্রত করবে, সেসবই কার্টুনই শিশুদের দেখানো উচিত বলে আমি মনে করি।

লেখক: শিক্ষার্থী, সঙ্গীত বিভাগ, জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়।

...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরো আর্টিকেল
© All rights reserved © 2020 Public Reaction
Theme Customized By BreakingNews