1. hasanf14@gmail.com : admin : Hasan Mahamud
উল্টো পথে হাঁটছে বাংলাদেশ | তাসনিয়া নওশীন - Public Reaction
বুধবার, ০৮ জুলাই ২০২০, ০২:৩৫ অপরাহ্ন

উল্টো পথে হাঁটছে বাংলাদেশ | তাসনিয়া নওশীন

  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার, ৭ মে, ২০২০
  • ১৭২ বার

প্রবাসী সাংবাদিক, কার্টুনিস্টসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেছে র্যাব-৩। অভিযোগ জনগণের মধ্যে বিভ্রান্তি, অস্থিরতা ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির । রমনা থানার মামলায় র্যাব-৩ ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে এ অভিযোগটি দায়ের করেছে।

করোনাভাইরাস মহামারী দ্বারা প্ররোচিত দেশব্যাপী এ বন্ধের সময় এপ্রিল মাসে প্রায় ৪,২৪৯ জন মহিলা বিভিন্ন ধরণের ঘরোয়া সহিংসতার মুখোমুখি হয়েছেন। সরকার এগুলোর প্রতিকারে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহনে ব্যর্থ অথবা অনিহ।

ক্ষতিগ্রস্থদের মধ্যে ৮৮৮ জন নারী শারীরিক সহিংসতার শিকার হয়েছেন, ২,০০০ জন মানসিক নির্যাতনের শিকার হয়েছেন এবং ১,৩০৮ জন অর্থনৈতিক সহিংসতার মুখোমুখি হয়েছেন – যার অর্থ তাদের খাদ্য এবং অন্যান্য আর্থিক সহায়তা বন্ধ করা হয়েছিল, রিপোর্ট তাই বলে।

এছাড়াও ৮৫ জন নারী যৌন সহিংসতার মুখোমুখি হয়েছেন, এমজেএফ আজ “বাংলাদেশে লকডাউনের সময় ঘরোয়া সহিংসতা” শীর্ষক ভার্চুয়াল প্রেস কনফারেন্সে সংস্থাটি দাবি করেছে।

জরিপ অনুসারে এপ্রিল মাসে ধর্ষণ ও যৌন হয়রানিসহ অন্যান্য ঘটনার সংখ্যা ছিল ৪২ জন। অধিকন্তু, শাটডাউনের সময় কমপক্ষে ৪২৪ শিশু তাদের পরিবারে নির্যাতনের শিকার হয়েছিল।

অবাধ তথ্য প্রবাহ এবং মুক্তবুদ্ধির চর্চার ফলশ্রুতিতে র্যাব-৩ ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলায় আসামি করা হয়েছে, কার্টুনিস্ট আহম্মেদ কবির কিশোর, ব্যবসায়ী মোস্তাক আহম্মেদ, তথ্যপ্রযুক্তিবিদ ও রাষ্ট্রচিন্তার সদস্য মো দিদারুল ইসলাম ভূঁইয়া, মিনহাজ মান্নান, প্রবাসী সাংবাদিক তাসনিম খলিল ও সাহেদ আলম, সায়ের জুলকারনাইন, আশিক ইমরান, ফিলিপ শুমাখার, স্বপন ওয়াহিদ, ব্লগার আসিফ মহিউদ্দীন প্রমুখকে. মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, র্যাব-৩ পর্যালোচনা করে দেখেছেম আই এম বাংলাদেশী (ইংরেজি হরফে লেখা) পেজের অ্যাডমিন সায়ের জুুলকারনাইন, আমি কিশোর, আশিক ইমরান, ফিলিপ শুমাখার, স্বপন ওয়াহিদ ও মোস্তাক আহম্মেদ নামে পাঁচজন দীর্ঘদিন ধরে ওই ফেসবুক পেজটি পরিচালনা করে আসছেন।

বাংলাদেশের সংসদ সদস্য সাইফুজ্জামান শিখর কর্তৃক ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে একটি মামলা দায়েরের পরদিন ১০ মার্চ সাংবাদিক শফিকুল ইসলাম কাজল নিখোঁজ হন। তিনি ৫৩ দিন নিখোঁজ ছিলেন। এই সময়ের মধ্যে তদন্ত করছি বলা ছাড়া আর কিছুই করেনি পুলিশ। দেশের একজন নাগরিক, একজন সাংবাদিক, একটি পরিবারের সদস্য, একজন বাবা, একজন স্বামী, একজন করদাতা-কোনো পরিচয়ই তাকে উদ্ধার করতে এগিয়ে আসেনি বাংলাদেশের পুলিশ। সম্প্রতি তিনি উদ্ধার হয়েছেন। তারপরও মামলার পর মামলা দিয়ে তাকে বিপর্যস্ত করে তোলা হয়েছে।

বাংলাদেশের সাংবাদিক নিখোঁজ হওয়া সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতায় দুর্বল দিকই আলোকপাত করেছে। প্রভাবশালী ক্ষমতাসীন দলের আইনপ্রণেতা তার বিরুদ্ধে মানহানির অভিযোগ দায়ের করার পর বিশিষ্ট বাংলাদেশী সাংবাদিক নিখোঁজ হয়েছিলেন। তার পরিবার বিশ্বাস করে যে তাকে অপহরণ করা হয়েছে ।

উল্টো পথে হাটছে বাংলাদেশ, সাংবাদিকসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে মামলা, করোনা ভাইরাস পরিস্থিতি নিয়ে লুকুচুরি এবং ত্রান বিতরনে অনিয়ম সহ সকল সীমাবদ্ধতা,দূর করার দাবি বোদ্ধামহলের।
করোনার সংকটকালে সঠিক তথ্য এবং স্বাধীন গণমাধ্যম নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি বলে মনে করেন ব্র্যাকের চেয়ারপারসন ও অর্থনীতিবিদ ড. হোসেন জিল্লুর রহমান। এক্ষেত্রে আস্থাভাজন প্রাতিষ্ঠানিক পরিবেশ তৈরি নিশ্চিতের বিষয়ে নজর দেয়াও প্রয়োজন বলে তিনি মত দেন। স্বাধীন এবং দায়িত্বশীল গণমাধ্যম থাকার অন্যতম পূর্বশর্ত নির্ভয়ে কাজ করার একটি পরিবেশ। বাংলাদেশ সরকার এর উল্টো পথে হাটছে।

লেখিকা: কানাডার ইউনিভার্সিটি অব রেজাইনার একজন শিক্ষার্থী, মুক্তমনা প্রাবন্ধিক।

...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরো আর্টিকেল
© All rights reserved © 2020 Public Reaction
Theme Customized By BreakingNews