1. hasanf14@gmail.com : admin : Hasan Mahamud
মানবাধিকার: কর্ম ও অভিজ্ঞতার দিনগুলো | আলী আকবর মাসুম - Public Reaction
সোমবার, ০১ জুন ২০২০, ১১:২৮ পূর্বাহ্ন

মানবাধিকার: কর্ম ও অভিজ্ঞতার দিনগুলো | আলী আকবর মাসুম

  • প্রকাশ : শুক্রবার, ৮ মে, ২০২০
  • ৩০৭ বার

আমার সামাজিক ও কর্মজীবনের কেন্দ্রবিন্দু হচ্ছে মানবাধিকার এবং সাংবাদিকতা। একটি অন্যটির অনেকটাই পরিপূরক। তার মধ্যে আমি আমার চিন্তা, চেতনায় মানবাধিকার ভাবনাকে বেশি ধারণ করি। এদিক থেকে কুমিল্লার একজন মানবাধিকার কর্মী, এ পরিচয়ে আমি বেশি স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করি। জীবনের বেশির ভাগ সময় জুড়ে চিন্তাচেতনা ও কর্মে আমি মানবাধিকার বিষয়ের সঙ্গে জড়িয়ে ছিলাম, তেমনি আজও আছি। এ বিষয়ে আমার কাজের বড় কোনো প্রতিষ্ঠানিক ক্ষেএ নেই, অভিজ্ঞতা ও সক্ষমতার দিক থেকেও আমার সামর্থ্য সীমিত।

কিন্ত গুরুত্ব ও প্রাধান্যে জীবনে বোধ বিবেচনা ধারণের শুরু থেকে মানুষ ও মানুষের অধিকারের যে কোনো বিষয়কে আমার ভাবনা ও দায়িত্বের সঙ্গে মিলাতে চেয়েছি সবসময়। এ কারণে মানবাধিকারের প্রধান প্রায় সবক’টি ধারায় নিজের সব মেধা, শ্রম দিয়ে দীর্ঘসময় ধরে প্রতিটি কাজের সঙ্গে সক্রিয় ছিলাম আন্তরিক ভাবে। চিন্তা এবং কাজের মধ্য দিয়ে আমি মানুষের মানবাধিকারকে সবসময় সামনে আনতে চেষ্টা করেছি। কেননা ধর্ষণ, নারী নির্যাতন থেকে শুরু করে দেশে সামাজিক, রাজনীতিক, অর্থনীতিক এমন প্রত্যেকটি ক্ষেত্রে মানবাধিকার ও ন্যায্যতার সংকট রয়েছে।

সামাজিক কোনো কাজের প্রতি আগ্রহের শুরুটা স্কুল জীবনের শেষ সময় থেকে এবং এলাকার দু-একটি সাধারণ সামাজিক কাজের মধ্য দিয়ে । তারপর কলেজে ভর্তির পর কয়েক বন্ধু মিলে একটি সামাজিক সংগঠন গঠন করি, ১৯৮১ সালে ‘ইউসফুল ফ্রেন্ডস সোসাইটি’ নামে। এই সংগঠন গঠনের পরবর্তী সময়ে ভালো ভালো কিছু সামাজিক কাজের মধ্য দিয়ে আমরা সূধীমহলে অনেক সুনাম ও পরিচিতি পাই। আমার ধারণা এভাবে সামাজিক কাজের প্রতি আগ্রহটা আরো পাকাপোক্ত হয়ে যায় । একের পর এক নতুন কোনো কার্যক্রম নিয়ে ব্যস্ত থাকছি প্রতিদিন, তারসঙ্গে জড়িত হয়ে গেছি অন্য দু-একটি সংগঠনের সাথেও। সংগঠন ও ব্যক্তিগত এই দু-ভাবেই আমরা ক’জন প্রতিটি জায়গাতে বেশ সক্রিয়’থেকেছি, এক্ষেত্রে আমি অন্যদের চেয়ে আরও একটু বেশিই এগিয়ে ছিলাম। সবমিলিয়ে সামাজিক অঙ্গনে তখন আর আমি খুব অচেনা – অজানা কেউ নই।

১৯৮২ সালে জাতীয় ভিত্তিক সংগঠন ‘বাংলাদেশ মানবাধিকার বাস্তবায়ন সংস্থার আমন্ত্রনে একদিন এক অনুষ্ঠানে যাই । অনুষ্ঠানের আলোচনায় হয়রানী, নির্যাতন , বঞ্চনার মতো কয়েকটি মানবাধিকার লংঘনের বিষয় ওঠে আসে এবং এনিয়ে সংস্থার গৃহীত উদ্দ্যোগ সর্ম্পকেও জানানো হয়। এসব কথা শুনে – জেনে আমি এখানে প্রথম আকৃষ্ট হই, মানবাধিকার সর্ম্পকে জানার আগ্রহ দেখা দেয়, সংস্থার সঙ্গে থেকে কাজ করার ইচ্ছাও তৈরি হয়।

আমার যতটুকু মনে পড়ে, সেদিনই সবার সামনে মানবাধিকার সংস্থার সদস্য হবার আগ্রহ প্রকাশ করি। সাংবাদিক দেলোয়ার জাহিদ সভাপতি এবং এড. লিয়াকত আলী সম্পাদক হিসেবে এসময় সংস্থার কুমিল্লা শাখার দায়িত্ব পালন করছিলেন।

১৯৮৮ সালের কোনো এক সময়ে সংস্থার এক সভায় আমাকে সদস্য করে একটি সম্পাদকীয় দায়িত্ব অর্পন করা হয় । প্রধানত জনাব দেলোয়ার জাহিদের কাছে এজন্য আমি আজও কৃতজ্ঞ, কারণ সেদিন একাজে জড়িত হতে না পারলে মানুষের জীবন এবং মানবাধিকারের এই ব্যাপক অপরিহার্য অধ্যায়ের সঙ্গে এত আগে থেকে সম্পৃক্ত ও জানার সুযোগ হত না।

মুক্তিযুদ্ব ও স্বাধীনতা অর্জনের পর মানবাধিকার শব্দটি বাংলাদেশের পরিস্থিতির সঙ্গে যুক্ত হলেও দেশের ভেতর মানবাধিকারের প্রাতিষ্ঠানিক পরিচয় ঘটে তারও অনেক পরে। বলা যায় আশির দশকের শুরু থেকে জাতীয় পর্যায়ে আইনজীবী, সাংবাদিক, শিক্ষাবিদদের মধ্যে কয়েকজন মিলে মানবাধিকার বিষয়টিকে সংগঠন ও প্রাতিষ্ঠানিকতার মধ্যে এনে কিছু কার্যক্রম শুরু করেন । তারপর এক একটি করে অন্যান্য জেলাতেও শাখা গঠনের মধ্য দিয়ে এনিয়ে কিছু কার্যক্রম শুরু হয় । কুমিল্লায় প্রথম পর্যায়ে বাংলাদেশ মানবাধিকার বাস্তবায়ন সংস্থার শাখা গঠন করে এনিয়ে সর্বপ্রথম কাজ শুরু করেন সাংবাদিক দেলোয়ার জাহিদ। এসময় বিচারপতি কামাল উদ্দিন হোসেন সংস্থার কেন্দ্রীয় সভাপতি এবং এড. সিগমা হুদা মহাসচিব ছিলেন। জনাব দেলোয়ার জাহিদের সঙ্গে আমি ১৯৯০-৯৩ সাল পর্যন্ত এই সংস্থার সাধারণ সম্পাদক হিসেবে চার বছর দায়িত্ব পালন করি।

এরইমধ্যে জনাব জাহিদ দেশের বাইরে চলে যান এবং আমি ঢাকায় রিপোর্টার হিসেবে পত্রিকায় চাকরিতে যোগ দেওয়ায় পরবর্তীতে আমরা সর্বসম্মতিক্রমে নতুন কমিটি গঠন করি। এড. নাজমুল আলম চৌধুরী নোমানকে সভাপতি এবং আবদুল আজিজ মাসুদকে সাধারণ সম্পাদক করে গঠিত কমিটিতে নজরুল ইসলাম বাবুল ও আমাকে সহসভাপতি করা হয়। তবে পত্রিকার চাকরির কারণে এ সংস্থার সঙ্গে যুক্ত থেকে আমার পক্ষে কাজ করা সম্ভব হয়নি। তারপর এ সংস্থার কার্যক্রমও ধীরে ধীরে গতিহীন হয়ে পড়ে। অবশ্য ঢাকায় বাংলাদেশ মানবাধিকার কমিশন নামে অন্য একটি সংগঠনের সাথে মাঝে মধ্যে আমি কাজ করেছি এবং সে সুবাদে পরবর্তীতে কুমিল্লায় তার কমিটিও গঠন করি। বিচারপতি এম সাদেক এসংস্থার চেয়ারম্যান এবং সাইফুল ইসলাম দিলদার এসময় কেন্দ্রীয় মহাসচিব ছিলেন।

এম জি মাহফুজ এবং এড. মুহাম্মদ ইসমাইল এ সংগঠনের সভাপতির দায়িত্ব পালনকালে আমি সম্পাদক ও আঞ্চলিক সমন্বয়কারী হিসেবে পনের বছর কাজ করি। এ সময়টিতে কেন্দ্রীয় ভাবে গৃহীত কার্যক্রমের বাইরে আমরা স্থানীয় পরিস্তিথির বিবেচনাতেই অনেক কার্যক্রম পরিচালনা করেছি ।

২০০১ ও ২০০৮ এ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ছাড়াও ইউনিয়ন পরিষদ ও পৌরসভা নির্বাচন সুষ্ঠু ভাবে অনুষ্ঠানে নির্বাচন প্রক্রিয়া এবং পর্যবেক্ষণ দুটোই যথাযথ ভাবে করেছি । আইন পরামর্শ ও সহায়তায় কেবল অসহায়, বঞ্চিতদের সংস্থার আইনজীবী সদস্যদের মাধ্যমে নিয়মিত সহায়তা দেওয়া হয়েছে । জেলার আইন শৃংখলা পরিস্থিতির পর্যবেক্ষণ, তথ্য সংরক্ষন সহ এনিয়ে সংগঠনের সামাজিক কোনো না কোনো প্রয়াসও ছিল সবসময় ।

এসবের ধারাবাহিকতায় পএিকার চাকরি ছাড়ার পর ২০০৪ সালে আমি কুমিল্লায় ‘অধিকার ফাউন্ডেশন’ নামে একটি পৃথক সংস্থা গঠন করি। মাষ্টার আবদুল মতিনকে সভাপতি করে আমি তার প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী পদে দায়িত্ব পালনের মধ্য দিয়ে ধীরগতিতে হলেও মানবাধিকার বিষয়কে প্রাধান্য দিয়ে সংস্থার কার্যক্রম এগিয়ে চলে ।

শুরুর দিকে অসুস্থতায় ভুগছেন অজ্ঞতা বা সচেতনতার অভাবে এমন কিছু দরিদ্র মানুষকে সাধারণ চিকিৎসা সেবা দেওয়ার পাশাপাশি সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে স্বেচ্ছাসেবকদের মাধ্যমে এক বছর পর্যন্ত সহায়তা করা হয় । বয়স্ক দরিদ্রদের জন্য অন্ধ কল্যান সমিতির সহায়তায় চক্ষু পরীক্ষা, বিনা মূল্যে চশমা প্রদান এবং কয়েকজনের চোখের ছানি অপারেশনেও সহায়তা দেওয়া হয় সংস্থার পক্ষ থেকে। প্রাইমারিতে যে সব শিশু দারিদ্রতা বা পরিবারের অনিহায় ক্লাসে অনিয়মিত হয়ে পড়ে তাদের উৎসাহ দিতে কিছু শিশুকে শিক্ষা সামগ্রী উপহার দেওয়া হয়। ২০১০ সালে কলেজ পর্যায়ে শিক্ষার্থীদের সেবার মানসিকতা তৈরি ও ইভটিজিং রোধে ক্যাম্পেইন কর্মসূচি গ্রহন করা হয় ।

২০০৯ সালে সরকার দেশে তথ্য অধিকার আইন কার্যকর করলে আমরা কুমিল্লায় এনিয়ে সংস্থার কার্যক্রম গ্রহন করি। সাবেক আইন প্রতিমন্ত্রী এড. কামরুল ইসলাম এক অনুষ্ঠানে কুমিল্লায় সংস্থার এ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেণ। নবীণ সাংবাদিক ও সমাজকর্মীদের তথ্য অধিকার বিষয়ে প্রশিক্ষণ প্রদান সহ সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে তথ্য চাহিদা এবং সহায়তার সুযোগ বাড়াতে পাঁচ বছর সংস্থার উদ্যোগে বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালিত হয় ।

এ কাজের সুবাদে আমাকে জাতীয় ভাবে গঠিত ‘রাইট টু ইনফরমেশন ফোরাম’ এর সদস্য পদ প্রদান করা হয় । সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের অংশগ্রহণে ‘শুদ্ধ জাতীয় সংগীত পরিবেশন কর্মশালা’ অধিকার ফাউন্ডেশনের উদ্দ্যোগে সম্ভবত কুমিল­ায় প্রথম অনুষ্ঠিত হয় । ২০০৮ এর জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও পরবর্তীতে জেলার তিনটি পৌরসভা নির্বাচনে ভোটার সচেতনতা এবং নির্বাচন পর্যবেক্ষণ করা হয় । রাষ্ট্রিয় সংস্থার জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের সেবা , সহায়তা মূলক কার্যক্রম সর্ম্পকে প্রচার ও সাধারণ মানুষকে সচেতন করতে গ্রামীন এলাকায় লিফলেট , মাইকিং ও পটগান আয়োজন কর্মসূচিও বাস্তবায়ন করে অধিকার ফাউন্ডেশন ।

মানুষের মৌলিক অধিকার সম্পর্কিত বিষয়ে বিভিন্ন সময় কিছু নিবন্ধ প্রকাশসহ গণমাধ্যমের সহায়ক ভূমিকায় নিয়মিত প্রকাশ পেয়েছে অধিকারের প্রাসঙ্গিক অনেক বিষয় । মানবাধিকার দিবস পালন করার সাথে অতি শীত বা কোনো দুর্যোগে অনগ্রসর মানুষদের সহায়তার চেষ্টাও ছিল কোনো কোনো সময় । এভাবে আজ পর্যন্ত চলছি অধিকার ফাউন্ডেশনের সঙ্গে আমিও । সাথে আর যে ক’জন আছেন , তাঁরা আছেন তাও আমার কাছে কম কিছু নয় ।

বলতে দ্বিধা নেই মানবাধিকার পরিস্থিতির বিবেচনায় একাজটিকে মনেপ্রাণে ধারণ এবং তার আলোকে দৃড়ভাবে এগিয়ে চলার সক্ষমতায় আমরা জেলা পর্যায়ে বেশি এগিয়ে যেতে পারিনি। তবে সরকারি ভাবে আইনী সহায়তা প্রদান এবং বেসরকারি ভাবে ব্লাষ্ট , এইড কুমিল্লার মতো কয়েকটি প্রতিষ্ঠান দরিদ্র, অসহায় অনেক মানুষের ব্যক্তিগত ও পারিবারিক বিরোধ মীমাংসায় সালিশ বা মামলা পরিচালনায় যে অবদান রাখছেন তা যথেষ্ট না হলেও প্রতিবছর অনেক সাধারণ মানুষ তাতে উপকৃত হচ্ছেন। কিন্ত সামাজিক এবং প্রাতিষ্ঠানিক বিষয়ের সঙ্গে সম্পর্কিত এমন অনেক গুরুত্বপূর্ন বিষয় আছে যার সমস্যা ও সমাধানের সঙ্গে মানুষের অধিকার, মর্যাদা ও প্রাপ্যতার সর্ম্পক রয়েছে। কোনো রাজনৈতিক, সামাজিক আন্দোলন যেমন নিয়মের বাইরে অনিয়মেও হয়, তেমনি মানবাধিকারের এমন কিছু বিষয় আছে তা অর্জন বা আদায় করতে হলে সাধারণ নিয়মে তাতে অনেক সময় সফলতা আসে না। বৃহত্তর স্বার্থে মানবাধিকারের প্রশ্নে কোনো কোনো বিষয়ে অর্থে-বিত্তে প্রভাবশালী, ক্ষমতার শক্তি, সংঘবদ্ব কোনো অপশক্তি কিংবা সরকার বা প্রশাসনের কোনো ব্যবস্থার বিরুদ্ধেও ভূমিকা নিতে হয় – এমনটিও মানবাধিকার রক্ষা বা অর্জনের নিয়ম । তারজন্য প্রাতিষ্ঠানিক বা সাংগঠনিক অবস্থার সাথে দরকার হয় ব্যক্তিত্বের গ্রহন যোগ্যতা এবং দৃঢ় ও সাহসী কোনো ব্যক্তির নেতৃত্ব। যদিও এরকম ব্যক্তিত্বের নেতৃত্ব দলীয় রাজনীতি ও জনপ্রতিনিধিত্বের ক্ষেত্রেও সমান ভাবে এবং অনেক বেশি সংখ্যক প্রয়োজন, কিন্ত তারজন্য যথেষ্ট আকাঙ্খা বা প্রচেষ্টা না থাকলে যা হবার তাই হয়েছে আমাদের দেশে । তবে গুনগত মানে আদর্শবান কিছু সংখ্যক মানুষ সক্রিয় থাকলেও মানুষের মানবাধিকার রক্ষায় জেলা, উপজেলাতেও আরো কার্যকর প্রচেষ্টা জোরদার করা সম্ভব । একসময় কুমিল্লাতে আমরা সেই দৃঢ়তা নিয়ে মানুষের মানবাধিকার রক্ষার কাজটি শুরু করেছিলাম। তখন রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক দৃষ্টিভঙ্গি যেমন অনেকটা ইতিবাচক ছিল আবার উপযুক্ত নেতৃত্ব ও সমমনা সহযোগী মিলে একটি সাংগঠনিক শক্তিও গড়ে ওঠতে ছিল ।

এ ধরণের যে কোনো কাজে দক্ষতা ও নিষ্ঠায় সাংবাদিক দেলোয়ার জাহিদ আমার দৃষ্টিতে কুমিল্লায় ছিলেন অদ্বিতীয় । অবশ্য এ জন্য তাঁকে অনেক মূল্যও দিতে হয়েছিল। ভয়-ভীতি , হামলা-মামলার মধ্যে ছিলেন শুধু তাই নয় , কুমিল্লা হাউজিং এষ্টেটে তার প্রতিষ্ঠিত ‘কুমিল্লা আদর্শ কলেজ’ নামের কলেজটিকেও স্বার্থান্বেষী মহলের ষড়যন্ত্রে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে । এভাবে তাঁর জীবিকার অবলম্ভনেও বাধা তৈরি করা হয়েছে বার বার । এদিক থেকে আমি বা আমার মতো যারা এপর্যন্ত এ ধরণের সামাজিক কাজে নিয়ম-নীতি মেনে টিকে আছেন তাঁদের জীবনেও চাওয়া, পাওয়ার অনেক কিছুই হারাতে হয়েছে। জনাব দেলোয়ার জাহিদ ছিলেন একজন ব্যক্তিত্ব সম্পন্ন দৃঢ়চেতা, সংগ্রামী মানুষ। যিনি সর্বোচ্চ শিক্ষাগত যোগ্যতা অর্জনের পরও কেবল বেশি অর্থ উপাজর্নের কোনো সুযোগ না নিয়ে একটি সময় পর্যন্ত সাংবাদিকতা এবং মানবাধিকার কর্ম কে নিয়েছিলেন জীবনের অবলম্বন হিসেবে ।

তিনি কুমিল্লায় ১৯৭০ দশকের মাঝামাঝি সময় থেকে ১৯৯৪ সাল পর্যন্ত সময়ে সাংবাদিক ও মানবাধিকার কর্মী এ দুই ক্ষেএেই আমার দৃষ্টিতে কর্মযোগ্যতা ও নেতৃত্বে এক অনন্য অবদান রেখেছেন । তিনি এসময়ের মাঝে আমি সহ সাংবাদিকতায় বেশ ক’জন তরুণ- যুবককে যুক্ত করার সঙ্গে একাজে গড়ে তোলার ক্ষেত্রে যেমন যথাসাধ্য চেষ্টা করেছেন, তেমনি প্রয়োজনে সাংবাদিকতাকে মানবাধিকার রক্ষার কাজে ব্যবহারেও অসাধারণ দৃষ্টান্ত তৈরি করতে পেরেছিলেন । সাংবাদিকতা তাঁর পেশা ও পরিচয় হলেও মানবাধিকার উন্নয়ন কাজেও শ্রম , নিষ্ঠা, আন্তরিকতায় দেলোয়ার জাহিদ ছিলেন ক্ষতিগ্রস্ত, বঞ্চিত কুমিল­ার অনেক মানুষের একজন আপন সঙ্গী। আমার এমন কথায় কারো কাছে হয়তো মনে হতে পারে – আমি একটু বাড়িয়ে বলছি , কিন্ত সে সময়ে যাঁরা চারদিকের খোঁজখবর রাখতেন বা জানতেন আমার ধারণা তাঁরা অন্তত: আমার সাথে খুব দ্বিমত করবেন না । এছাড়া কুমিল্লায় তাঁর নেতৃত্বে আমরা যে ক’জন মানবাধিকার কর্মকান্ডে সক্রিয় ছিলাম তাঁদের মধ্যে আমি যেসব কাজের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত ছিলাম তা থেকে যেটুকু এখানে উল্লে­খ করতে চাই, তার ভেতর থেকেও সে সময়ের একটি সঠিক ধারণা খুঁজে পাওয়া যাবে বলে আশা করি ।

হালিমা টেক্সটাইল মিল। কুমিল্লার একসময়ের বৃহৎ এই মিলটি কোটবাড়ি রোড় দিয়ে যেতে রাস্তার পাশেই তার প্রধান ফটক ও সাইনবোর্ড দেখা যেত। প্রায় ১৫শ’ শ্রমিক দিনে-রাতে এই মিলে কাজ করতেন। ১৯৮৫ সাল থেকে মিলটিতে শ্রমিক অসন্তোষ দেখা দেয়, এসময় প্রথমে শ্রমিকদের বেতন-ভাতা অনিয়মিত হতে থাকে। এভাবে চলতে চলতে দুই বছরের মধ্যে কর্মরত অধিকাংশ শ্রমিকের বকেয়া পাওনা অনেক বেড়ে গেলেও কর্তৃপক্ষ তা পরিশোধ না করে উপরন্ত শ্রমিক ছাঁটাইয়ের চেষ্টা করে । এক পর্যায়ে বকেয়া বেতন-ভাতা পরিশোধের দাবিতে মিলের শ্রমিকরা প্রথমে ধর্মঘট পালন এবং পরে এনিয়ে মিলের ভেতরে বাইরে আন্দোলন শুরু করেণ। এ অবস্থায় মিল কর্তৃপক্ষ শ্রমিকদের বকেয়া পরিশোধ না করেই হঠাৎ ১৯৮৬ সালে লে-অফ ঘোষনা করেন । তারপর এই বৃহৎ মিলটি আর চালু না হয়ে একসময় সম্পূর্ন বন্ধ হয়ে যায় । মিল চালু ও বেতনের দাবিতে শ্রমিকদের আন্দোলন আরো জোরালো হয়ে ওঠে । এ পরিস্থিতিতে শ্রমিকদের সমর্থনে মানবাধিকার সংগঠন ‘বাংলাদেশ মানবাধিকার বাস্তবায়ন সংস্থার পক্ষ থেকে দেলোয়ার জাহিদের সঙ্গে কয়েকজন সাংবাদিকসহ একসঙ্গে শ্রমিকদের ন্যায্য দাবি দাওয়া আদায়ে একটানা ৬/৭ বছর ধরে নানা ভাবে সক্রিয় ভূমিকা রাখেন । আশি ও নব্বইয়ের দশকে কুমিল্লা বিমান বন্দর এলাকায় বসবাস করা অনেকগুলো পরিবার কে কর্তৃপক্ষ উচ্ছেদের চেষ্টা করলে তার বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষের প্রতিবাদ , বিক্ষোভের যুক্তিকতা প্রমান এবং তা স্থগিত করতে আমরা সংস্থার পক্ষ থেকে মধ্যস্ততা করতে সক্ষম হয়েছি । দক্ষিন কুমিল্লার বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত অসংখ্য কৃষকের সমস্যা সমাধান ও সহায়তা লাভে সহায়ক ভূমিকা রেখেছি । পানি উন্নয়ন বোর্ড কুমিল্লা অঞ্চলে কর্মরত ১১ জন উপসহকারী প্রকৌশলীকে অন্যায় ভাবে চাকরিচ্যুত করা হলে তাঁদের আন্দোলন ও আমাদের সহায়তায় দুই বছরের মাথায় তাঁরা আবার চাকরি ফিরে পান । এরকম কিছু কিছু ঘটনা ছাড়াও জমি-জমা দখল , হয়রানী, নারী নির্যাতন, খুন – ধর্ষনের মতো অনেকে ঘটনায় অসহায় , ক্ষতিগ্রস্ত , ন্যায় বিচার বঞ্চিত হয়েছেন এমন বিবেচনায় নির্বাচিতদের জন্য সামাজিক সালিশ, বিচারে সমাধান না হলে – অনেক সাধারণ মানুষ বা পরিবার কে আইনজীবীর মাধ্যমে পরামর্শ, আইন সহায়তা দিয়ে সমস্যার সমাধান করা হয়েছে । অনেক পারিবারিক বিরোধের মিমাংসা , স্বামী – স্ত্রীর সংসার ভেঙ্গে যাবার শেষ পর্যায়ে এসেও আমি বা আমাদের মধ্যস্থতায় কত পরিবার যে টিকে গেছে – আবার নতুন ভাবে শুরু করে সংসার জীবনে স্থায়ী হয়েছে , আজও তা ভাবতেই অনেক ভালো লাগে । এসবের সংখ্যা ও ঘটনা গুলো লিপিবদ্ধ করে রাখার প্রাতিষ্ঠানিক সুযোগ বা প্রয়োজন তেমন ছিল না বলে আমরা তা বেশি দিন সংরক্ষণ করতে পারিনি।

এগুলো প্রচার করে সুনাম – সুবিধা নেব, পদক – পুরস্কার পাব এমন কোনো ভাবনাও আমার মনে অন্তত: কখনো আসেনি। অর্থাৎ কোনো পেশাদার সমাজ কর্মীর মতো করে আমি আমাকে তখন ভাবিনি । এসময়টিতে অনেক সাধারণ অসহায় মানুষকে দেখেছি -যারা কোনো না কোনো ভাবে খবর নিয়ে সকাল থেকে দিনের যে কোনো সময়ে আমাদের বাড়িতে পর্যন্ত এসে উপস্থিত হয়েছেন তাঁর সমস্যা নিয়ে, সমস্যা সমাধানে প্রয়োজনীয় পরামর্শ , সহায়তা পাবার আশায় । কুমিল­ার সিনিয়র আইনজীবী এড. আবদুল মতিন খসরু, এড. এম ফারুক , এড. আলী ইমামের মতো ক’জনের যেমন কোর্টে মামলা পরিচালনায় যথেষ্ট সহায়তা পেয়েছি , আবার সংস্থার আয়োজনে প্রশিক্ষণ, সেমিনার জাতীয় কার্যক্রমকে সফল করতে তাঁদের অংশগ্রহন ও ভূমিকাও ছিল অত্যন্ত আন্তরিক । প্রয়াত এড. আলী ইমাম কে স্মরণ করে বলতেই হয় , একবার কুমিল্লা বার্ডে আয়োজিত এক প্রশিক্ষণ কর্মশালায় তিনি বিষয়ভিত্তিক একজন আলোচক হিসেবে আমাদের আমন্ত্রন রক্ষা করতে গিয়ে রিকশায় করে কোটবাড়ি গেছেন এবং একইভাবে ফিরে এসেছেন। আন্তরিক স্বদিচছার এমন উদাহরণ আরও কিছু মহৎপ্রাণ মানুষের একটু না একটু ছিল বলেই এখনকার সময়ের অনেক ব্যয়রহুল আয়োজনও আমরা তখন স্বল্প ব্যয়ে করে উদ্দেশ্যের সফলতা পেয়েছি। মানবাধিকার লংঘন বা বড় কোনো ক্ষয়-ক্ষতির প্রেক্ষিতে সংস্থার তদন্ত ও তার প্রতিবেদন প্রকাশের বিষয়টিও অনেক গুরুত্ব পেয়েছে । কোনো ঘটনার তদন্তের পর প্রতিবেদন সংবাদপএে প্রকাশ করা ছাড়াও প্রয়োজনে জেলা ও পুলিশ প্রশাসন বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছেও তা দেয়া হত । সংস্থার এরকম তদন্ত ও প্রতিবেদন ক্ষতিগ্রস্ত পক্ষের জন্য সহায়ক এবং সুবিচারে উপকারিতা ছিল বলেও মাঝে মধ্যে আমরা দেখতে পেয়েছি ।

কুমিল্লায় কর্মরত সাংবাদিকদের মাধ্যমে মানবাধিকার লংঘনের অনেক ঘটনাও পত্রিকায় প্রকাশিত হওয়ায় প্রশাসন ও সংশ্লিটদের কাছে করণীয় নির্ধারণে এনিয়ে তৎপরতাও ছিল লক্ষ্যনীয় । ১৯৯১ সালে অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময় থেকে কুমিল্লায় মানবাধিকার সংগঠনের পক্ষ থেকে প্রথম আনুষ্ঠানিক নির্বাচন পর্যবেক্ষণ কার্যক্রম শুরু হয় । তার আগে সাংবাদিকরাই কেবল পত্রিকার মাধ্যমে সীমিত ভাবে তাঁদের পর্যবেক্ষণ তুলে ধরতেন । আমার নিজেরও নির্বাচন পর্যবেক্ষণের অভিজ্ঞতা এবং এবিষয়ে প্রশিক্ষণ গ্রহণের শুর“টা এখান থেকে । আমার মনে হয় ‘৯১ সালে প্রথম আমাদের দেশে নির্বাচন পর্যবেক্ষনের ধারণা ও গুরুত্বের দিকটি স্বীকৃত হয়েছে । বলা যায় , আশির দশকের মাঝামাঝি থেকে শুরু করে সবমিলিয়ে দুই দশক পর্যন্ত স্বেচছামূলক এসব কার্যক্রমের ধারাবাহিক গতি ও কার্যকারিতা অনেক বেশি ছিল । প্রশ্ন থাকতে পারে , রাজনীতিক দল বা নেতৃবৃন্দের এসব বিষয়ে স্থানীয় ভাবে কী ভূমিকা ছিল । সামাজিক কাজের দিক নিয়ে এখানে আমি বলছি বলে শুধু সংক্ষেপে বললে – আমার কাছে মনে হয়েছে , স্বাভাবিক ও স্থিতিশীল পরিবেশ অনেকটাই অনুপস্থিত থাকায় রাজনৈতিক অবস্থান থেকে এরকম সমস্যা গুলো তখন দায়িত্ব নিয়ে সমাধান করা সম্পূর্ন সম্ভব ছিল না । তবে অধ্যাপক খোরশেদ আলম , অধ্যক্ষ আবুল কালাম মজুমদারের মতো নেতৃবৃন্দের মধ্যে যাঁরা যেটুকু পেরেছেন অবশ্যই ভূমিকা রেখেছেন এবং তা সমস্যা সমাধানে সহায়কও ছিল । রাজনৈতিক আগ্রহের বাইরে থেকেও বড় কোনো ইস্যুতে রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ কুমিল্লার সাধারণ মানুষের পক্ষেই ভূমিকা রাখার চেষ্টা করতেন । সামাজিক ও রাজনীতিক উদ্দেশ্যের মধ্যে তখনও দূরত্ব বেশি ছিল না । ফলে নাগরিক বা স্থানীয় স্বার্থ কিংবা সাধারণ মানুষের প্রয়োজনে কোনো সামাজিক উদ্যোগ, প্রচেষ্টা কখনো একেবারে বৃথা হয়ে যেত না । রাজনীতিক এবং প্রশাসনিক এই দুই জায়গাতেই সামাজিক প্রচেষ্টার একরকম গুর“ত্ব ও মূল্যায়ন কিছু ছিল বলে জেলা ও পুলিশ প্রশাসনে অনেক বিষয়ে ইতিবাচক ফলাফলও পাওয়া যেত । তার একটি উদাহরণ বা ঘটনা হিসেবে থানা পুলিশের দায়িত্ব ও সহযোগিতার কথা আমি এখানে একটু উলে­খ করতে চাই , আমাদের সংস্থার দায়িত্বে পরিচালিত বিবাহ বিচ্ছেদ ও শিশু সন্তানের লালন পালন নিয়ে একটি মামলায় কোর্টে সন্তানের মায়ের কাছে তাঁর সন্তান কে ফিরিয়ে দেওয়ার রায় হয় । আমরা মায়ের পক্ষ হওয়ায় ঢাকা থেকে রায়ের কপিটি আমার কাছে পাঠিয়ে শিশুটির বাবার বাড়ি কুমিল্লা থেকে উদ্ধারে সহায়তার অনুরোধ করা হয় । আমি পরদিন কোতয়ালী থানার ওসি এর সঙ্গে দেখা করে বা”চাটি উদ্ধারের অনুরোধ জানালে তিনি রায়ের কপি দেখে পরদিন সকালে আমাকে থানায় আসতে বলেন । সন্তানের মা সহ পরদিন আমি থানায় যাওয়া মাত্র দেখলাম তিনি ফোর্স নিয়ে প্রস্তত এবং এরইমধ্যে বা”চা ও তার বাবার অবস্থানটিও জেনে নিয়েছেন । তারপর বাচ্চার মা কে সঙ্গে নিয়ে গিয়ে বাড়ি ঘেড়াও করে বাচ্চাটিকে উদ্ধার করলেন এবং মা কে বাচ্চাটি বুঝিয়ে দিলেন। কোনো দ্বিধা, প্রত্যাশা ছাড়া পুলিশের এরকম সহযোগিতার বিষয়টি আজ এভাবে কতটা খুঁজে পাওয়া যাবে , বলা সত্যি কঠিন ।

কাজের গুরুত্ব ও মূল্যায়নের এরকম সময় গুলো ক্রমেই অনেকটা হারিয়ে যাবার পরও মানবাধিকার বিষয়ে ২০২০ পর্যন্ত শেষের দুই দশকে আমার অভিজ্ঞতায় ইতিবাচক ও নেতিবাচক এই দুটো দিক মিলে প্রত্যাশার তুলনায় প্রাপ্তি সামান্য হলেও নানা ভাবে আমি আরও অনেক সমৃদ্ধ হয়েছি । সামাজিক ও রাজনীতিক পরিবেশ, প্রেক্ষাপট এবং পরিবর্তিত পরিস্থিতির মধ্যে মানুষ ও মানবাধিকারের বিভিন্ন বিষয় গুলো সময় সাপেক্ষ না হয়ে বরং কিভাবে আরো দুর্বল হয়েছে তার অনেকটা দেখা ও বুঝার সুযোগ হয়েছে । বলে নেওয়া প্রয়োজন – সামাজিক, রাজনীতিক, অর্থনীতিক অধিকার লাভের ক্ষেত্রে এ সর্ম্পকিত কোনো বিষয়ই মানবাধিকারের বাইরে নয়। দেশ, মানুষের কল্যানে মানবাধিকার পরিস্থিতির উন্নয়ন, সংরক্ষণের সকল বিষয় গুলো দেশের সংবিধানে যতটা স্পষ্ট , সুনির্দিষ্ট ভাবে উল্লে­খ করা আছে রাষ্ট্র ও সরকার তার কতটা রক্ষা করতে পেরেছে এবং পারছে না – এদিক থেকে প্রাপ্তি যত সামান্যই হোক ভাবনার পরিসর ও দাবির যৌক্তিকতা দিনে দিনে অনেক বড় হয়েছে । এরকম সবকিছু মিলেই সব মানুষের মানবাধিকার প্রতিষ্ঠার গুরুত্ব , অপরিহার্যতা কে কোনো ভাবেই স্বাধীন ও গনতান্ত্রিক এদেশে আংশিক বা অসর্ম্পূণ ভাবে বিবেচনার সুযোগ নেই । দেশে দেশে মানবাধিকার পরিস্থিতির ভিন্নতা এবং সামর্থ্যের মাঝে পার্থক্য থাকলেও প্রতিটি মানুষের মৌলিক চাহিদা ও প্রাপ্যতার দাবি প্রায় সর্বত্রই সমান । বাংলাদেশ এদিক থেকে সর্ম্পূন পিছিয়ে না থাকলেও সময়ের কাজ সময়ে এবং পরিবর্তিত অব¯’ায় মানবাধিকারের চাহিদা পূরণ ও দাবি রক্ষা করার ক্ষেত্রে আজ পর্যন্ত স্বদিচ্ছার অভাব ও সক্ষমতার দুর্বলতায় ভুগছে । এরকম দুর্বলতার পেছনে মূখ্য বিষয় হিসেবে – আইনের শাসন , সামাজিক সুবিচার , আদর্শ গণতন্ত্র , মানবিক মর্যাদা ও সুশাসনের অসম্পূর্নতা মানবাধিকারের দাবি পূরণের নেপথ্যে বড় বাধা হয়ে আছে । অথচ এসব নিয়ে দেশের রাজনীতিক দলের বাইরেও সচেতন মহল তাঁদের আখাঙ্কার বিচারে একটি সভ্য ও উন্নত দেশ নির্মাণে নানা ভাবে দাবি জানিয়ে আসছে বছরের পর বছর ধরে । নাগরিক উদ্দ্যোগ কিংবা সামাজিক কোনো প্রতিষ্ঠানের হয়ে এই প্রচেষ্টা , পথচলায় আমি এবং আমরা অনেকে দীর্ঘদিন আশা-নিরাশার মাঝে এগিয়ে চলেছি একসঙ্গে । নাগরিক অবস্থান কিংবা সামাজিক কোনো প্রতিষ্ঠানের এসব ইস্যুতে যত প্রচেষ্টা বা দাবিই থাকুক না কেন তার কতটুকু স্বীকৃতি এবং সমাধানে দেশের সরকার , প্রশাসনে এসবের কতটা গুরুত্ব বহন করে আমার কাছে এপর্যন্ত এসেও তা প্রশ্ন হয়ে আছে । জাতীয় পর্যায়ে গঠিত যে কটি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে গত দুই দশক ধরে জড়িত থেকে আমি সক্রিয় ভাবে কার্যক্রমে অংশ নিয়েছি তাতে সময় সাপেক্ষ প্রয়োজনীয় সব কটি বিষয় যতভাবে যতবারই এসেছে – রাজনীতি ও সরকারে এসবের গ্রহনীয়তা বলা যায় খুবই সামান্য । স্থানীয় ভাবেও ব্যক্তি, সংগঠন বা প্রতিষ্ঠানগত ভাবে এই দীর্ঘ সময়ে যতসব বিষয়কে চিহ্নিত করে ইতিবাচক ফলাফল অর্জনের লক্ষ্য নিয়ে ছোট আকারে হলেও আমাদের যে সম্মিলিত প্রয়াস ছিল তার দিক থেকেও অর্জন বেশি নয় ।
.

.
লেখক: মানবাধিকারকর্মী এবং সাংবাদিক।

...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরো আর্টিকেল
© All rights reserved © 2020 Public Reaction
Theme Customized By BreakingNews