1. hasanf14@gmail.com : admin : Hasan Mahamud
নজরুল ক্যানভাসে রবীন্দ্রনাথ | ইমরুল কায়েস - Public Reaction
বুধবার, ০৮ জুলাই ২০২০, ০২:৩৮ অপরাহ্ন

নজরুল ক্যানভাসে রবীন্দ্রনাথ | ইমরুল কায়েস

  • প্রকাশ : বুধবার, ২০ মে, ২০২০
  • ৪৬ বার

বাংলা সাহিত্যের বসুধায় রবীন্দ্রনাথ সমুদ্রসম; এর দিকে যতই এগোনো যায় ততই গভীর থেকে গভীরের স্বাদ আস্বাদন করা যায়। অন্যদিকে নজরুল গভীর সমুদ্র জলরাশির উপরে দিগন্ত বিস্তৃত অবারিত খোলা আকাশ; অপার স্বাধীনতার ছোঁয়া নজরুলের সাহিত্যে। আজীবন বাঁধনহারা মুক্ত চঞ্চল নজরুল বাংলা সাহিত্যের মুক্ত আকাশ। ২৫ বৈশাখ রবীন্দ্রনাথ আর ১১ জ্যৈষ্ঠ নজরুল এই ধরাধামে আসেন। প্রকৃতির একই ঋতুতেই এই দুই ফলবান বৃক্ষের আবির্ভাব। পরাধীনভারতে দুজনের জন্মহলেও স্বাধীনজন্ম ভূমিতে বিদ্রোহী বীরহিসেবে নজরুল মৃত্যুবরণ করেন। জন্মে দুজনে পরাধীন; কিন্তু নজরুল তাঁর সারাজীবনের সাহিত্য সাধনায় যে শৃঙ্খল ভাঙ্গার স্বপ্ন দেখেছিলেন তার বাস্তবায়ন তিনি দেখেছেন। এদিকটায় নজরূল রবীন্দ্রনাথ থেকে বিপরীত ও সফল।

রবীন্দ্রনাথ নিজ পরিবারের আভিজাত্যে, স্ববেতনে জমিদার। ফলে পারিবারিক একটি বড় দায়িত্বে আবদ্ধ থেকে ভেতরে ভেতরে দুমরে-মুচরে ছিলেন। নজরুল হাবিলদারীর পর জীবন-জীবিকায় আগাগোড়া কবিতায় থিতু। কাজী নজরুলের কষ্ট দুই জায়গায়ই ছিলোÑঅন্তরের ও অন্দরের। অপর দিকে বিশ্বকবির অন্দরের জীবিকার সমস্যা না থাকলেও অন্তরে ক্ষত ছিল। সাহিত্য সৃষ্টি ও মনের হাহাকারে দুজনেই ভীষণভাবেই একে অপরের। কবিতার বাগানে বিচরণে সম; সুরভি ও সুবাসে আলাদা। নজরুলের শামসুন নাহারকে লেখা চিঠিতে বলেছেন-…রবীন্দ্রনাথের ‘পুরস্কার’ কবিতাটি পড়েছ? ওতে এই কথাই আছে। ‘কবি রাজ-দরবারে গিয়ে রাজাকে মুগ্ধ করে রাজপ্রদত্ত মণি-মাণিক্যের বদলে চাইলে রাজার গলার মালাখানি’। চিঠিতে বেশ বোঝাযায়- নজরুল ঘটা করেই রবীন্দ্রনাথের সাহিত্যকর্ম গুলো পড়তেন।

রবীন্দ্রনাথের সাথে নজরুলের প্রথম দেখা হয় ১৯২০ সালে শান্তিনিকেতনে ড. মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ সহ। নজরুল তাঁর নতুন কবিতা ‘আগমনী’ আবৃত্তি করে শোনান। এরপরে ১৯২২ সালের ১১ জুলাই কলকাতার রামমোহন লাইব্রেরি হলে। ছন্দের জাদুকর কবি সত্যেন্দ্রনাথ দত্তের প্রয়াণে তাঁর গান ও শোকপ্রশস্তি নিয়ে হাজির নজরুল বিপুল লোকসমাগমে জায়গা না পেলে, সভাপতি রবীন্দ্রনাথ নজরুলকে ডেকে তাঁর পাশে বসার অনুরোধ করেন। এতে নজরুলের প্রতিভার প্রতি রবীন্দ্রনাথের স্বীকৃতি প্রকাশ পায় এবং স্নেহ।

নবীন কবি-নজরুলের এমন সরব প্রকাশ কলকাতার অনেক প্রতিষ্ঠিত কবি লেখক মেনে নিতে পারছিলেন না। কিন্তু কবিগুরু ছিলেন বিপরীত। ‘বসন্ত নাটক নজরুলকে উৎসর্গ নিয়ে অনেকে রবীন্দ্রনাথকে নজুরুল সম্পর্কে কটু কথা বলা শুরু করল। তেমন অমল হোমের নজরুল নিয়ে সমালোচনা- ‘…সহজ সরল তীব্র ও ঋজু বাক্য মাত্রই কবিতা বা সাহিত্য হয়ে উঠেনা’। স¦য়ং রবীন্দ্রনাথ তখনি প্রতিবাদ করেছেন- ‘কখন ও নয়। তীব্রতাই যদি কাব্য গুণের আধার হতো; তবে মুখের প্রতিটি কথাকে কবিতা বলা যেত। তীব্রতাও রসাত্মক হলেই কাব্য হয়ে ওঠে। যেমন হয় নজরুলের বেলায়’। অল্পদিনেই নজরুল যেমন কবিতায় আলোড়ন সৃষ্টি করে সবার টনক নড়িয়েছিলো; তেমনি সেই স্বল্প সময়ে নজরুলের সাহিত্য প্রতিভার বিচ্ছুরণ কবিগুরু আঁচ করতে পেরেছিলেন। নজরুলের বন্ধু পবিত্র গঙ্গোপাধ্যয়কে জেলখানায় নজরুলের কাছে পাঠিয়ে রবীন্দ্রনাথ বলে দিলেন- ‘…সে যেন দুঃখ না করে। আমি তাকে সমগ্র অন্তর দিয়ে অকুন্ঠ আর্শীবাদ জানাচ্ছি। আর বলো,কবিতা লেখা যেন কোনো কারণেই বন্ধ না করে। সৈনিক অনেক মিলবে, কিন্তু যুদ্ধে প্রেরণা যোগাবার কবি ও তো চাই’। রবীন্দ্রনাথের চেয়ে কম বয়সি নজরুল তাঁকে জানতেন এবং শ্রদ্ধা করতেন; তাঁর ৮০ বছরপূর্তিতে নজরুল কবিতা লিখেছেন।
একজন পরিপক্ক সাহিত্যিক-বিশ্বকবি। আর একজন তাঁর চেয়ে ৩৮ বছরের ছোট, বলা যায় বালক-এক কবিতায় অর্জন ‘বিদ্রোহী কবি’র খেতাব। নজরুলের ভাষায়- ‘কবিতা আর দেবতা-সুন্দরের প্রকাশ। সুন্দরকে স্বীকার করতে হয় সুন্দর যা তাই দিয়ে’। দুজনেই সুন্দরের সারথী। নজরুলের চোখে রবীন্দ্রনাথ নমস্য; আর কবিগুরুর চোখ তিনি স্নেহধন্য নজরুল। ধূমকেতুর জন্যে আর্শীবাদ চেয়ে পাঠালে রবীন্দ্র্র্র্র্র্র্র্র্র্র্র্রনাথও অতিশয় স্নেহে ‘কাজী নজরুল ইসলাম কল্যাণীয়েষু’ লিখে সাথে দিলেন আট লাইনের কবিতা- ‘আয় চলে আয় রে ধূমকেতু…জাগিয়ে দে রে চমক মেরে, আছে যারা অর্ধচেতন’। এতে রবীন্দ্রনাথ নজরুলের কবি সত্তাকে সম্মানীয় করেছেন।

নজরুল এবং রবীন্দ্রনাথের নিয়মিত-অনিয়মিত পত্রালাপ হতো। জেলখানায় নজরুলকে রবীন্দ্রনাথ তাঁর ‘বসন্ত’ নাটক উৎসর্গ করে কপিসহ বার্তা পাঠিয়েছিলেন। বইটি হাতে তুলেকপালে ঠেকিয়ে বুকে চেপে ধরেছিল নজরুল আর বার্তাবাহক বন্ধু পবিত্র গঙ্গোপাধ্যয়ের কাছে জানতে চাইল, ‘আর কী বলেছেন গুরুদেব?’ সব শুনে নজরুল বলেছিলেন, ‘গুরুর আদেশ শিরোধার্য’। পরে নজরুলের অনশন ভাঙ্গানোর জন্য পুত্রকে দিয়ে রবীন্দ্রনাথ আলীপুর সেন্ট্রাল জেলে টেলিগ্রাম পাঠিয়েছিলেন- বহরমপুর জেল থেকে নজরুল রবীন্দ্রনাথকে যে চিঠি লিখেছিলেন তা বিশ্বভারতীর রবীন্দ্রভবনে সংরক্ষিত আছে। নাগরিক নামে একটি পত্রিকার জন্য নজরুল ১৯৩৫ সালের ২৮ আগস্ট কবিগুরুকে চিঠি লেখেন লেখা চেয়ে। চিঠিতে নজরুলের অসীম শ্রদ্ধা প্রদর্শন- ‘শ্রীচরণাবিন্দেষু, গুরুদেব! বহুদিন শ্রীচরণ দর্শন করিনি।…তবু জানি, আমার শ্রদ্ধার শতদল আপনার চরণস্পর্শ থেকে বঞ্চিত হয়নি’। তেমন অপর দিকে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর চিঠির জবাবে অব্যাহত স্নেহের বর্ষণ ছিল- ‘কল্যাণীয়েষু, অনেকদিন পর তোমার সাড়া পেয়ে মন খুশি হলো। কিছু দাবী করেছ-তোমার দাবী অস্বীকার করা আমার পক্ষে কঠিন।’ রবীন্দ্রনাথ ‘নাগরিকের’ জন্য লেখা দেয়নি তাই বলে নজরুল তাঁকে ভুল বোঝেননি। ওই ‘নাগরিকের’ শারদ সংখ্যায় তীর্থপথিক নাম দিয়ে নজরুল রবীন্দ্রনাথের উদ্দেশ্যে দীর্ঘ কবিতা লিখলেন,‘হে কবি হে ঋষি অন্তর্যামী আমারে করিও ক্ষমা।…তুমি মহর্ষি করিয়াছ ক্ষমা আমি চাহিবার আগে…’। এতে দুই কবির আবেগীয় সম্পর্কের গভীরতা বোঝা যায়।

সৃষ্টিতে দুজনের আবার বৈপরীত্য আছে। কখনো সখনো স্বভাব সুলভ বিদ্রোহী মুখরা নজরুল রবীন্দ্রনাথকে সমালোচনা করতেন। সাপ্তাহিক ‘সওগাত’ এর চানাচুর বিভাগে নজরুল শুধু গাভী নামে ব্যাঙ্গাত্মক রচনা লেখেন, ‘রবীন্দ্রনাথ তাঁর নামিত কোন এক পরিষদে তরুণ সাহিত্যিকদের লেখার উল্লেখ করে বলেছিলেন, ‘দুধ নেই শুধু ফেনা’। রবীন্দ্রনাথ দুধের এক্সপার্ট কিনা জানিনা। অন্তত কর্পোরেশনে মিউনিসিপ্যালে গেজেটে তো তাঁর নাম দেখিনি। কিন্তু দুধ ছাড়া কি শুধুতে ফেনা হয়, ভাষাকে নিয়ে ফেনানো যাঁদের পেশা তাঁরাই ভালো বলতে পারবেন।’ তবে ভক্তি কবিগুরুর প্রতি নজরুলের অটুট ছিলো। যে বছর সওগাতে লিখে রবীন্দ্রনাথকে আক্রমণ করলেন সেই ১৯২৮ সালেই রবীন্দ্রনাথকে তাঁর শ্রেষ্ঠ কবিতার সংগ্রহ ‘সঞ্চিতা’ উৎসর্গ করলেন।

নজরুলের প্রতি রবীন্দ্রনাথের একটি কোমল স্নেহের দিক ছিল। কিন্তু রবীন্দ্রবলয়ের অনেকে তা পছন্দ করেনি। ফলে দুই মহাস্রষ্টার শ্রদ্ধা ও স্নেহের সম্পর্ককে তিক্ততায় নিয়ে আসতে অনেকেই সচেষ্ট ছিলেন। বিদ্রোহী কবিতা ভাব চুরি করে লেখা এ নিয়ে মোহিতলাল মজুমদার, শনিবারের চিঠি ও আরো কিছু পত্রিকা নজরুলকে ব্যাঙ্গ-বিদ্রুপ শুরু করে। স্বভাবে আজন্ম প্রতিবাদী নজরুল তাঁর ‘স্বঘোষিত গুরু’ মোহিতলাল মজুমদারকে নিয়ে ‘সর্বনাশের ঘন্টা’ কবিতায় লিখলেন- ‘যত বিদ্রুপই করো গুরু তুমি, জান এ সত্য বাণী, কারুর পা চেটে মরিব না, কোনো প্রভু-পেটে লাথি হানি ফাটাব না পিলে…।’ কিন্তু কিছু লোক এই কবিতা রবীন্দ্রনাথকে ‘গুরু’ বলে লেখা বলে কথা রটাতে লাগল। পরে রবীন্দ্রনাথ এমন নির্বোধ ও কুৎসিত বিষয়ে গা করেননি। ‘আমার কৈফিয়ৎ’ নজরুলের অসামান্য এক কবিতা। যেখানে তিনি বলেন, ‘মাথার উপরে জ¦লিছেন রবি’ বলে রবীন্দ্রনাথকে শ্রদ্ধা জানান। নজরুলের ‘লাঙল’ পত্রিকার ত্রয়োদশ সংখ্যায় ১৯২৬ এর ২৫ মার্চ ছাপা হয় রবীন্দ্রনাথের আশীর্বাণী, ‘জাগো জাগো বলরাম, আনো তব মরু-ভাঙা হল, প্রাণ দাও, শক্তি দাও, স্তব্ধ করো ব্যর্থ কোলহল।’

‘খুন’ শব্দ নিয়ে একটা বির্তক তৈরী হয়েছিলো তাতে দুজনের সম্পর্কে সাময়িক একটু ছন্দ পতন আঁচ করা গেলেও মহতীরা যে জন্য মহতÑবিদ্বেষ জিইয়ে রাখে না। ১৯২৭ সালের ১৩ ডিসেম্বর প্রেসিডেন্সি কলেজের রবীন্দ্র-পরিষদের আয়োজিত এক রবীন্দ্র-সংবর্ধনায় রবীন্দ্রনাথ কবিতায় ‘খুন’ কথাটা প্রয়োগ নিয়ে কিছু একটা মন্তব্য করেছিলেন। নজরুল তাঁর এই গানটি, ‘উদিবে সে রবি আমাদেরই খুনে রাঙিয়া পুনর্বার’ একবার রবীন্দ্রনাথকে শুনিয়েছিলেন। তাই নজরুল মনে করলেন তিনিই মনে হয় রবীন্দ্রনাথের সমালোচনার পাত্র হলেন। কল্লোল যুগের লেখকদের সঙ্গে রবীন্দ্রনাথের সংঘর্ষে শরিক ছিলেন নজরুল। সমালোচনা করে ‘আত্মশক্তি’ পত্রিকার ৩০ ডিসেম্বর ১৯২৭ সংখ্যায় লিখেন ‘বড়র পীরিতি বালির বাঁধ’ প্রবন্ধ । নজরুল ইসলাম নিজে তাঁর সম্পর্কে রবীন্দ্রনাথের যে কথা তা ১৯২৮ সালের ২৪ জানুয়ারির কাজী মোতাহার হোসেন কে লেখা চিঠিতেÑ‘রবীন্দ্রনাথ আমায় প্রায়ই বলতেন, দেখ উন্মাদ, তোর জীবন শেলীর মতো, কীটসের মতো খুব বড়ো একটা ট্রাজেডি আছে, তুই প্রস্তুত হ।’ নজরুল মাঝে মাঝে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সাথে স্বেচ্ছায় কিংবা ডেকে পাঠালে দেখা করতেন। নজরুলের ভাষায়- ‘সংকোচে দূরে গিয়ে বসলে সস্নেহে কাছে ডেকে বসিয়েছেন। মনে হয়েছে, আমার পূজা সার্থক হল, আমি বর পেলাম।…অনেকদিন তাঁর কাছে না গেলে তিনি ডেকে পাঠিয়েছেন…।’ সাক্ষাতে কবিগুরু নজরুলকে অনুযোগ করে বলেছেন, ‘তুমি তলোয়ার নিয়ে দাড়ি চাঁচছ-তোমাকে জনসাধারণ একেবারে থানায় নিয়ে ফেলবে।’ এধরণের কথোপকথন থেকে বোঝা যায় নজরুল ইসলামের খোঁজ খবরে পূর্ণমাত্রায় রবীন্দ্রনাথ ওয়াকিবহাল ও নজরুলের ভবিষ্যত নিয়ে বেশ উদ্বিগ্ন ছিলেন। এমনকি নজরুলের মধ্যে অতিরিক্ত আবেগীভাব, ভাষায় ও আচরণে,আর হয়তো বিবাহের আগে ও পরেও তাঁর একাধিক প্রেমবৃত্তান্ত রবীন্দ্রনাথের কাছে অজানা ছিল না। ১৯৩১ এর জুন মাসে নজরুল দার্জিলিং যান তখন রবীন্দ্রনাথও সেখানে। তিনি সদলবলে তাঁর সাথে দেখা করেন। নজরুলের ভাষায়, ‘যথাবিহিত আলাপ হয়েছিল, প্রাণখোলা সরস সৌজন্যে, প্রীতি ও শ্রদ্ধায়।’

নজরুলের রবীন্দ্রসংগীতে ছিল গভীর টান। তিনি যখন করাচি যান সাথে নিয়েছিলেন রবীন্দ্রসংগীতের স্বরলিপি। অবিশ্রান্ত এই সংগীত গাইতেন। কলকাতায় ফিরেও তা চলছে বিরামহীন। তাই মুজাফফর আহমেদ বলতেন- ‘নজরুল রবীন্দ্রসংগীতের হাফিজ’। রবীন্দ্রনাথের মহাপ্রয়াণের পরে শুধু কবিতাই লিখেননি, গান লিখছেন ও তাতে সুর বসাচ্ছেন এমনকি নিজেই পরিবেশন করতেন। আগস্টের ৭ ১৯৪১ রবীন্দ্রনাথের মৃত্যু। ওই দিনই নজরুল আকাশবাণী কলকাতা কেন্দ্র থেকে স্বকন্ঠে ‘রবিহারা’ কবিতা আবৃত্তি করেন।

রবীন্দ্রনাথের মৃত্যুর পর নজরুল অন্তত পাঁচটি কবিতা ও গান লেখেন। সব্যসাচী নামের পত্রিকার কার্যালয়ে রবীন্দ্রপ্রয়াণে যে শোক সভা হয় সেখানে সভাপতিত্ব করেন নজরুল। রবীন্দ্রনাথের স্নেহবৃত্তের একেবারে কেন্দ্রে অবস্থান নিয়েছিলেন নজরুল। রবির মৃত্যুতে তাইতো নিজের লেখা ও সুরে ইলা ঘোষের সঙ্গে দ্বৈত কন্ঠে গেয়ে উঠলেন নজরুল, ‘ঘুমাইতে দাও শ্রান্ত রবিরে’। নজরুলের ভাষায়, ‘বিশ্বকবিকে আমি শুধু শ্রদ্ধা নয়, পূজা করে এসেছি সকল হৃদয় মন দিয়ে, যেমন করে ভক্ত তার ইষ্টদেবতাকে পূজা করে।ছেলেবেলা থেকে তাঁর ছবি সামনে রেখে গন্ধধূপ-ফুলচন্দন দিয়ে সকালসন্ধ্যা বন্দনা করেছি।’ নজরুলের কাছে এক রবীন্দ্রনাথ বহুদর্শনের পুরোধা পরম পূজনীয়; তেমনি কবিগুরুর কাছে নজরুল প্রসন্ন প্রশ্রয়ের চির বিদ্রোহী স্নেহতুল্য।

লেখক: সরকারি কর্মকর্তা

...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরো আর্টিকেল
© All rights reserved © 2020 Public Reaction
Theme Customized By BreakingNews