1. hasanf14@gmail.com : admin : Hasan Mahamud
অসুখের পৃথিবীতে সুখের খোঁজে | ইমরুল কায়েস - Public Reaction
রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২০, ১০:৪৯ অপরাহ্ন

অসুখের পৃথিবীতে সুখের খোঁজে | ইমরুল কায়েস

  • প্রকাশ : শনিবার, ২৫ জুলাই, ২০২০
  • ৮৯ বার

আমজনতার অনুভূতিতে মিলে গেলে লেখাটি শুরু করবো ভিন্ন ছন্দে বা অন্য ঢং এ। মিলে যাবে ধরে নিয়েই কলামের কাঠখোট্টা ভাববাণীর বাতাবরণের আবরণ থেকে দিগম্বর করেই চলমান লেখাটি পত্রস্থ হচ্ছে। সম্পাদক মহাশয় দায়িত্বের ভাড়ে বিগড়ে গিয়ে লেখাটি না ছাপলে নিশ্চিত বোঝা যাবে তাঁর সাথে লেখার একটি বর্ণেরও সাজুয্য নাই! বিছানায় শুয়ে ঘুম ঘুম করতে করতে ঘুম আর আসে না। মশাড়ির ভেতরে ঢুকলে দম বন্ধ হয়ে আসে। রাত দুটো পর্যন্ত রক্তের স্পর্শে চলা মায়াবি মোবাইলের পর্দায়, হয় পুরোনো কোন নাটক নয়তো কোন পত্রিকার সাপ্তাহিক সাময়িকী বারবার জুম অফ জুম অন করে পড়া চলে। পাশে সাত পাঁকের প্যাচে আটকা শয্যা সঙ্গিনীর বেঘোর ঘুম আর আমার বুকে চিন্তার পাহাড়। মোবাইল বন্ধ করে রাখলে—বুকের ভেতর একটা চাপ লাগে; রক্তের অক্সিজেনের সেচুরেশন কমে আসলো বুঝি! করোনা টুটি চেপে ধরে আছে; এমন মনে হয় বার বার। যদিও বোধযুক্ত মানুষ, নিজেকে সুবোধ দিলেও একটা অদৃশ্য ভয়ের ছায়া পিছু ছাড়ে না। ঘুম আসে ঠিক দুটো-আড়াইটায়। ভয়ের ঘোরে বুকের ওপর মাসানের মতো কি একটা ভারি ভর করে আছে মনে হয়। দুই হাত দিয়ে বুকে হাতড়াই—কই, কিছুই তো নাই। বোবা ধরলেও তো পাশের জনের গা লাগলে ছেড়ে দেয়। এতো ছাড়ে না সহজেই। এমন জীবনের সাথে আষ্টেপৃষ্ঠে থাকা করোনা ভাইরাস সবার মনের ওপর একটি ভারি জগদ্দল হয়ে বসে আছে।

প্রবাদ আছে—বনের বাঘে খায় না মনের ভয়ে খায়। কিন্তু করোনার সংক্রমণের চেয়ে বড় ভয় এখন এর চিকিত্সা নিয়ে প্রতারণার। এই সমাজে এখন চারপাশে শঠ, প্রতারক আর জোচ্চর এ ভরে গেছে। সদা নতুন করে ভাবতে হচ্ছে—করোনা ধরলে বাঁচার যা আশা তা করোনা পরীক্ষার প্রতারকের পাল্লায় পরলে সে আশা নিরাশার নিড়ে পরিণত হবে। ভয়টা তাই দ্বিগুণ-ত্রিগুণ হয়ে রাতে ওমন বুকের মধ্যে ভর করছে। উদ্বিগ্নতা, চিন্তা আর সুন্দর সকালের নিত্য উত্কন্ঠায় শ্বাস-প্রশ্বাসের টানাপড়েনে এই হাল হচ্ছে। তাই মশাড়ির ভেতরে আর ঢুকতে ভালো লাগে না। শোয়ার ঘরের দক্ষিণপাশের বারান্দা লাগোয়া জানালা দিয়ে গভীর রাতে রাস্তার বাতির আলো সোজা চোখে এসে লাগে। তাই ভারী পর্দা টেনে দিই। ও মা যেই পর্দা টানি, দম আটকে আসে। এই বুজি অক্সিজেনের ঘাটতি হলো! এই যে করোনা আসলো। করোনা ধরলে আবার বাড়তি অক্সিজেন কই পাবো। আবার শংকা অক্সিজেন সিলিন্ডার নিয়েও তো চলছে কালোবাজারি, বিশুদ্ধ অক্সিজেনের বদলে সিলিন্ডার ফাঁকা! দূষিত নিম্ন গ্রেডের অপরিশোধিত অক্সিজেন! ভয় পাবো না কেন। থমকে শরীর বরফ হয়ে যাবে না কেন?

মুক্ত বাতাসে, নাক মুখ খুলে কতোদিন হাঁটা হয় না। প্রাণ ভরে শ্বাস নেওয়ায় বাঁধা মাস্ক! অফিস যাওয়া-আসার কালে ক্লান্ত পরিশ্রান্ত কপালে জমে থাকা ঘাম প্রিয় আপন হাতে মুছতে পারি না। ভয়ে ভয়ে বাজার থেকে মাস্ক, গ্লাভস, সার্জিক্যাল টুপি আর হ্যান্ড স্যানিটাইজার কিনি। এই বুঝি ঠকে আসলাম—ব্যবহুত পুরোনো মাস্ক বা নকল স্যানিটাইজার বা নকল গ্লাভস কিনলাম! টানা দুই মাস ধরে সকাল ৯ টা থেকে ৫ টা মুখে মাস্ক আর হাতে গ্লাভস পরে থাকতে থাকতে নাকে দাগ আর ডান হাতের ফাঁকে ঘা হয়েছে। এখন মনে হচ্ছে না জানি নিম্ন মানের বা নকল গ্লাভস আর মাস্ক পরে এ দশা হলো কি না? এমন জীবন সংকটে দেশের কতিপয় ব্যবসায়ী নকল স্যানিটাইজার, মাস্ক বিক্রি করছে। মানুষের বিপদের দিনে মওকা বুঝে এমন দান মারার চল মনে হয় শুধু বাঙালির ঘটেই জোটে।

অতি নিকট একজনের করোনা সন্দেহে, এক সপ্তাহ পরে বিজয় স্মরণীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে পরীক্ষা করানোর তিনদিন পরে রিপোর্ট বলছে করেনা পজেটিভ। এর মধ্যে করোনার টেস্ট নিয়ে মানুষের জীবন নিয়ে টেস্ট খেলায় মেতে উঠা হাসপাতাল সিলগালার খবরে সেই নিকটজন এখন ভয়ে ভীত। করোনা কি আদৌ ধরেছে না টেস্ট করতে গিয়ে ধরলো? এখন ভয়ে আবার টেস্ট করানোর জন্যে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ে সিরিয়াল নিতে বলছে। এতো গেল একজন সচেতন ব্যক্তির চিন্তা ও ভয়। তাহলে অতি সাধারণ যারা আছেন তাদের দশা একেবারেই কাহিল না হয়ে পারে না। মানুষ কোথায় যাবে? সাধারণ মানুষ সাধারণ রোগ হলে যতটা তটস্ত হয় সেখানে এমন একটি অজানা চিকিৎসাবিহীন রোগের কবলে পড়লে এমনিতেই ভয়ে পড়ারই কথা।

এই দম বন্ধ হওয়া পরিবেশে সব কিছুই কার্যত স্থবির। সবাই জীবিকার জন্যে যেটুকু বের হই ততটুকু না হলে সামনে কঠিন পরিস্থিতিতে পরতে হতো। মার্চের শেষ থেকে প্রিয় মানুষদের সাথে বসা হয় না। মুরুব্বী গোছের প্রিয় কোন মানুষ আর কাঁধে হাত দিয়ে স্নেহ বা সান্ত্বনা দেয় না। যা কিছু করছি সব দূরে থেকেই। মাঝে মাঝে মনে হয় এই মানুষ গুলিই কি সেই পরিচিত চির চেনা প্রিয় মানুষ! কাছে থেকে সবাই দূরে। এমন সময় প্রত্যেকেরই ফেলে আসা দিন গুলিকে হয়তো খুব করেই মনে পড়ছে। এখন নিভৃতে নিজেকে নিঃসঙ্গ মনে হয়। নিজেকে নস্টালজিক করে বার বার নিয়ে যাই, ফেলে আসা সুদূর কৈশরে গ্রামের সেই ঐতিহাসিক কাজিয়ার মাঠে। তিনবিঘা জমির সুবিশাল ফাঁকা মাঠ—সবুজ লিকলিকে সতেজ দূর্বা ঘাসের নরম বিছানা। মাঠের চতুর্দিকে সদ্য ধানের কচি শীষ বেড়োনো চারা। ধানের শীষের সাথে সাদা সাদা অলংকার পড়ানো কচি ধানের মুখ। একটা চমত্কার মাদকতাপূর্ণ গন্ধ আছে এমন কচি ধানের শীষে—এই গন্ধ কতোদিন নিই না।

ভাবনার বহরে নতুন ভয় যুক্ত হয়েছে —না জানি করোনা বুঝি ভেতরে উপসর্গ দেখানো ছাড়াই আমার ঘ্রাণ শক্তি কেড়ে নিচ্ছে! বিশুদ্ধ বাতাস থেকে নির্মল অক্সিজেন; প্রকৃতির মাঝে বিস্তৃত নানা উদ্ভিদ; লতা পাতা ও ফুলের ঘ্রাণ নেওয়ার শক্তি; জিহবা দিয়ে স্বাদ আস্বাদন করার ক্ষমতা না থাকলে কী আর লাভ বেঁচে থেকে? বারান্দায় বেশ ঝাপুর-ঝুপুর লাল গোলাপের গাছ; পাশে আর একটি পুষ্ট হলুদ গোলাপের। ভাবছি মাঝখানে আর একটি সাদা আর কালো গোলাপের গাছ লাগাবো। লাল; সাদা আর কালো তিনটি রং জীবনের তিন বেলার অনুভূতি প্রকাশ করে কি না?

করোনা কালে লাল জিনিস দেখলে ভয় লাগে। এই বুঝি জীবনের লাল বাতি জ্বলে উঠল! সাদা রংয়ের গোলাপে বিরহ ও বিধবার শোক! কোন নিকট জন বা না জানা কত জন যে বিধবা হবে সদা সেই শংকা। আবার কালো গোলাপে মনে আসছে শোক—মৃত স্বজনের জন্য শোক! তাই চিন্তা করেছি, সাদা আর কালো গোলাপ গাছ আনবোই। না জানি কোনটা কখন কি বার্তা দিবে! এখন ভরসা লালের পাশে হলুদ গোলাপের গাছে দুটি সুন্দর তরতাজা বেস ঢাউস পাপড়িতে পরিণত হলুদ গোলাপ। যেন হেসে আমাকেই বলছে—থেমে গেলে চলবে? লেখক বাবু! এই তো আমি হলুদ রংয়ের সর্তক বাতি। সাবধানে স্বাস্থ্য বিধি মেনে চলো। করোনা ভীতি দূর হবে। ছুটির দিনে বারবার বারান্দায় গেলে বিপুল বিস্ময়ে অবিরত তাকিয়ে থাকি। আর গোলাপের পাপড়িতে নাক ডুবিয়ে দেই না, কোন ঘ্রাণ পাই না! গৃহমন্ত্রী, মানে বউকে বলি—পঁচা গোলাপ গন্ধ নেই। মনে মনে ভাবী—করোনা মনে হয় শরীরে সুপ্ত হয়ে গুপ্তভাবেই আছে নইলে ফুলের ঘ্রাণ কেন আমার নাকে লাগবে না?

এ শহরে কখনোই চোখ জুড়ায় না, শ্রান্তি আসেনা। চারদিকে শুধু ইট আর গাড়ি। দিনদিন যন্ত্রের সাথে আমরাও বিরতিহীন দ্বিচক্রযান হয়ে পড়েছি। কোন উদাস করা হাওয়া নেই; দুচোখ যেদিক যায় সেদিকে কোন ধূঁ ধূঁ করা ফাঁকা মাঠ বা ফসলের ক্ষেত নেই; কিংবা ফঁকা প্রান্তরে উচলে উচলে পড়া ছল ছল বানের পানি নেই। বৃষ্টি নামছে গরু ছাগলের দড়ি ছিঁড়ে ছোটা ছুটি বা ছাগল ছানা কোলে করে আউলা কাপড়ে দৌড় দেয়া গাঁয়ের বধুর তাড়া নেই। এখন কোরবানী ঈদে বাড়ি গেলে শুধু দড়ি ধরে হাট থেকে কিনে এনে কোরবানী দেয়া ছাড়া কোন কাজ থাকে না। সেই সেই কবে যে আদুরে লাল গরুটার জন্যে বস্তা ভরে ঘাস কেটে আনতাম। পুকুরে সেই ঘাস গুলো সুন্দর উল্টা পাল্টা করে ধুয়ে পানি নিংড়িয়ে গরুর সামনে দিলে লাল গরুটার মাথা নাড়ানো আর বড় বড় ছলছল চোখে তৃপ্তির তাকানো দেখলে মন প্রশান্তিতে ভরে যেত। এখন সেই দেখার চোখ এ প্রতিদিন ফেসশিল্ড আর প্রটেকটিভ চশমা পড়ে নষ্ট করে ফেলছি। আসছে কোরবানীর ঈদে এবার সেই সামন্য গরুর দড়ি ধরার সৌভাগ্য হবে কিনা তার তো কোন নিশ্চয়তা দেখছি না। এমন হলো কেন? জীবন যেন যাবজ্জীবন জেলের শেকলে আটকা পড়েছে।

সময়টা কি অদু্ভদ রকম করে বদলে গেল! ভাবাই যায় না। এখন আর পিঁড়িতে বসে পরিবারের সবাই মিলে ভাত খাওয়া হয় না বা ভাত খেয়ে থালা মায়ের ভরসায় রেখে ছুট দেয়া হয় না। ঐ যে খেলা বুঝি শেষ হয়ে এলো বা শুক্রবারের বিটিভির সিনেমা শুরু হয়ে একপর্ব চলে গেল। করোনা কালে প্রত্যেকদিন দেখছি নিত্য নূতন সিনেমা। জি ফাইভ, নেটফ্লিক্স, বায়োস্কোপ, হইচই এ কতো সিনেমা চাইনিজ, কোরিয়ান, বলিউডের নাম করা হিরো হিরোইনদের সুপার-ডুপার সব ছবি। তারপরেও কেন মাথায় মধুর স্মৃতি আসে—শুক্রবারের বিকেল তিনটার পূর্ণদৈর্ঘ্য বাংলা ছায়াছবি—বাবা কেন চাকর, ভাবী মা, চাঁদের আলো, সুজন সখি, প্রেমের নাম বেদনা, বা আত্মত্যাগ কিংবা আনন্দ অশ্রুর মতো সব সিনেমা। পাক্কা তিনঘন্টার সিনেমায় দুই ঘন্টার বিজ্ঞাপন দেখে রাত আটটায় বাড়ি ফেরা। সেই । আশ্চর্য চৌকোণ টিভির বাক্সটা কি আনন্দ দিতো। পুরো সপ্তাহ চলতো সেই সিনেমার সংলাপ আওড়ানো বিশেষ করে নায়ক ও ভিলেনের পার্ট বলা। যে দেখতে পারেনি তাকে ব্রিফ দেয়া আর শুনে তার যে আফসোস যেন কোটি টাকা হারিয়ে ফেলার দুঃখ পেয়েছে। এখন হাতের মুঠোয় এক আঙ্গুলের টানে বাবা কেন চাকর দেখে ফেলতে পারি কিন্তু ওমন সেই দেখার অনুভূতিতে আর চোখের কোনায় জল গড়ায় না। বড়ই বেপরোয়া আবেগহীন সময়ে আছি। ইউটিঊবে হাজার হাজার নাটক দেখি কিন্তু বিটিভির জোছনার ফুল, বা হুমায়ূন আহমেদের জননী নাটক আজো স্মৃতিতে ভাস্বর। আর হয়তো এই জীবনে সেই নির্জলা নির্মোহ অনুভূতির তীরে মনের তরী ভিড়বে না কখনো! সেই প্রাপ্তিতে না ছিল কোন চাপ, না জোর করে দেখার তাগিদ। এখন দেখছি করোনার ভয়ে। নিজেকে কোন কিছুতে ডুবিয়ে রাখার জন্যে। তখন দেখতাম শুধুই খেয়ালে; মুক্ত চিত্তে আর ফাঁকা নিস্কলুষ ভাইরাস বিহীন মেমরি নিয়ে।

করোনার মতো অসামাজিক অসুখে সারা পৃথিবীর মুখ মলিন। এমন দম আটকানো ঘোর লাগা নিবু নিবু করে বেঁচে থাকার জীবন চাই না। হাত বাড়িয়ে হাত ধরে ঝাঁকি দিয়ে সামনের জনকে বলতে চাই—কেমন আছেন ভাই? মাস্কের ভেতরে হাসার জন্য হাঁসফাঁস করতে থাকা বন্দি হাসি গুলো প্রাণ ফিরে পাক। আবার জীবনের সোনালী কৈশোরে উচ্ছ্বাসে ভাসুক সকল বিদ্যাপিঠের আঙিনা। বসতে চাই অসুস্থ স্বজনের শিয়রে, হাসপাতালের সকল রোগির কপালে হাত রাখতে চাই পরম স্নেহে। বাসে, ট্রেনে কিংবা লঞ্চে পাশের যাত্রীকে চাই আত্মীয় নয় তবুও একমিনিটের চোখাচুখিতে গল্পের ঝাঁপি মেলে বসতে যেন পুরো যানবাহন বা বগিটি হয়ে উঠে একটি পরিবার। গেল ঈদে তো কোলাকুলি হয়নি এবারো হবে না এমন উত্সব যেন না আসে। চাই আকুল আবেগে প্রতিটি মানুষকে দুই হাতে জড়িয়ে কোলাকুলি করতে যেন একজনের প্রাণের স্পন্দনের ছন্দে আরেক জনের দুর্বল হৃদ কম্পন সবল হয়। কোন ভাবেই আর চাইনা মানুষের কাছ থেকে দূরে থেকে সুখের অসুখ বাড়াতে। অসামাজিক এই অসুখের ছোঁয়া যেন আর একটি মানুষকেও না লাগে সেই প্রার্থনা নিরন্তর।

রচনা কাল: ২১/০৭/২০২০, শ্যামলী, ঢাকা।
লেখক: গবেষক ও সরকারি কর্মকর্তা
ইমেইল-ikayesnbr@yahoo.com

...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরো আর্টিকেল
© All rights reserved © 2020 Public Reaction
Theme Customized By BreakingNews