1. hasanf14@gmail.com : admin : Hasan Mahamud
গ্রামের চা স্টলেই ঝুঁকি বেশি | জয়নুল আবেদীন স্বপন - Public Reaction
বুধবার, ০৮ জুলাই ২০২০, ০২:৪৬ অপরাহ্ন

গ্রামের চা স্টলেই ঝুঁকি বেশি | জয়নুল আবেদীন স্বপন

  • প্রকাশ : শনিবার, ৪ এপ্রিল, ২০২০
  • ১১৫ বার
গ্রামের একটি দোকান। ছবি: সংগৃহীত

করোনাভাইরাসের সংক্রমণের ঝুঁকি থেকে রক্ষা পেতে শহর থেকে গ্রামে ছুটে এসেছে মানুষ। ছুটিতে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী ও কর্মজীবী মানুষ গ্রামকেই নিরাপদ ভাবছেন।

বর্তমানে গ্রামেই মানুষের ভিড় বেশি। করোনা মহামারী যেখানে সারা বিশ্ব নিজেদের বিচ্ছিন্ন করে রেখেছে; সেখানে গ্রাম ও শহর সবখানেই ভয়। গ্রামের মানুষের সরলতা ও অসতর্কতার সুযোগ নিয়ে প্রবাসীরাও দেদারসে ঘুরে বেড়াচ্ছে। তারা কোয়ারেন্টিন মানছে না।

খেটে খাওয়া মানুষের কাজ বন্ধ থাকায় সময় কাটানোর জন্য, টেলিভিশনের সংবাদ শোনার জন্য তারাও সকাল-বিকাল চায়ের স্টলে ভিড় করছেন। কাজ নেই তাই প্রয়োজনে হোক আর অপ্রয়োজনে হোক, চা স্টলে আড্ডা ছাড়া যেন দিন কাটে না। বড় কথা, বাড়িতে বসে থাকাটা মনে হয় মেনে নিতে পারছেন না তারা। চা খাওয়া বড় কথা নয়, এখানে সময় কাটানোর একটা উপলক্ষ মাত্র। অভ্যাসের বশে অনেকে নিজের অজান্তেই চা স্টলে চলে আসে।

করোনাভাইরাস বিস্ফোরণের কথা মনে হলে নিজেকে সামলিয়ে একটু ফাঁক ফাঁক হয়ে বসে। তারপরও তাদের আড্ডা চলে। রাস্তায় কম মানুষ দেখা গেলেও চা স্টলের ভেতরের আড্ডা ঠিকই চলে। সর্বসাধারণের আড্ডা দেয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি হয়েছে, মাইকিং হয়েছে, লিফলেট বিতরণ হয়েছে, টেলিভিশনের খবর তো আছেই। তারপরও গ্রামের মানুষ সচেতন হচ্ছে না। বিশ্বজুড়ে হানা দেয়া ভয়াবহ করোনাভাইরাস নিয়ে জনমনে চাপা আতঙ্ক বিরাজ করছে। অথচ ছোঁয়াচে করোনাভাইরাস নিয়ে এখনও মানুষ সচেতন হচ্ছে না।

মুখে অনেকেই মাস্ক পরলেও নিয়ম-কানুন মানছে না। বাজারে দূরত্ব বজায় রেখে কেনাকাটা ঠিকমতো হচ্ছে না। বাজারের চা স্টল বন্ধ থাকলেও গ্রামের ভেতরে পাড়ায় পাড়ায় চা স্টল খোলা থাকে। গ্রামের মানুষও এ নিয়ে তেমন প্রতিবাদ করে না। চা স্টলে পাশাপাশি বসে চা পান করা, টিভি দেখা কিছুটা কমে এলেও সব চা স্টল বন্ধ হয়নি। এক হাতে চা অন্য হাতে বিড়ি নিয়ে যার যার মতামত পেশ হচ্ছে ওখানে। সামনের দিনগুলো যে আরও ভয়াবহ হবে, এ চিন্তা তাদের মাথায় নেই।

করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব রোধকল্পে নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে চলছে চায়ের দোকানে আড্ডা। পুলিশ প্রশাসনের উদ্যোগে নিয়মিত মহড়া দেয়া হলেও পুলিশকে ফাঁকি দিয়েই সব হচ্ছে। পুলিশের খবর পেলেই চা বিক্রেতারা দোকান বন্ধ করে পালিয়ে যায়। একটু পরে আবার দোকান খুলে।

এখানে বখাটেদেরও অপ্রয়োজনীয় আড্ডা চলে। গ্রামের মানুষকে সচেতন ও সতর্ক থাকতে আরও কড়াকড়ি নির্দেশনা দিতে হবে। করোনার বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে ঢাল-তলোয়ার লাগে না; শুধু ঘরে বসে থাকলেই হয়।

লেখক: শিক্ষক। মাওনা, গাজীপুর।

...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরো আর্টিকেল
© All rights reserved © 2020 Public Reaction
Theme Customized By BreakingNews